ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩৩, ২৫ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শারীরিক যত্ন থেকে গোপন পাপ: জীবনের ভারসাম্য কেন নষ্ট হয়?



শারীরিক যত্ন থেকে গোপন পাপ: জীবনের ভারসাম্য কেন নষ্ট হয়?

মানুষের জীবনে ওঠানামা থাকা স্বাভাবিক হলেও চরমপন্থী আচরণ বা ভারসাম্যহীনতা প্রায়ই মানুষকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামি জীবনব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার ফলে মানুষ সাধারণত অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি অথবা চরম শৈথিল্যের শিকার হয়। 

পবিত্র কোরআনে মানুষের স্বভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, মানুষ অতিমাত্রায় অস্থিরচিত্ত—বিপদে সে উৎকণ্ঠিত এবং কল্যাণে কৃপণ হয়ে পড়ে। মন ও আবেগের এই চরমপন্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন ইসলামের সুষম শিক্ষা ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন।

মানুষ কেন তার জীবনের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে, এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, নিজের মন ও স্বভাব সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই আবেগের সামান্য হেরফেরেই নিজেদের মোনাফিক বা দুর্বল ঈমানদার ভেবে হতাশ হয়ে পড়েন। 

এ প্রসঙ্গে হজরত হানজালা (রা.) ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিখ্যাত ঘটনার উদাহরণ টেনে বলা যায়, মানুষের অবস্থার পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক মানসিক প্রক্রিয়া। দ্বিতীয়ত, সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া বা দ্বিনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী না করে একসময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করে তোলে।

পাশাপাশি, বর্তমান যুগে পড়াশোনা, চাকরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়ে অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের অবিরাম তুলনা করার মানসিকতাও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। এর ফলে মানুষের মনে হীনম্মন্যতা ও হিংসার জন্ম নেয়। 

চতুর্থত, পর্যাপ্ত ঘুমহীনতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মতো শারীরিক যত্নের অবহেলা মানুষের মধ্যে মানসিক বিরক্তি ও ইবাদতে অনীহা তৈরি করে। ইসলাম সবসময় আত্মা, মন ও শরীরের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ সত্তা গড়ার ওপর জোর দিয়েছে।

এছাড়া দুনিয়াবি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষের মানসিক শান্তিকে ভঙ্গুর করে তোলে, কারণ একমাত্র স্রষ্টা ছাড়া অন্য কিছুর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা মানুষকে সামান্য আঘাতে ভেঙে ফেলতে পারে। 

পরিশেষে, গোপন পাপ ও আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকা মানুষের অন্তর থেকে প্রশান্তি কেড়ে নেয়, যার ফলে সে অল্পতেই ধৈর্যহারা হয়ে পড়ে। এসব সংকট থেকে বাঁচতে ইসলাম সবসময় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং সুশৃঙ্খল মানসিকতা বজায় রাখার শিক্ষা দেয়।


   আরও সংবাদ