নদী, পাহাড়, অরণ্য আর আকাশের দিকে তাকালে মন এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। এই বিশাল প্রকৃতির প্রতিটি কোণ জুড়ে রয়েছে এক সুমহান ও সুশৃঙ্খল বিধান। গভীর চিন্তায় ডুব দিলে দুটি চিরন্তন সত্য আমাদের সামনে ভেসে ওঠে—একটি হলো মহাবিশ্ব ও প্রকৃতির সার্বজনীন আনুগত্য, অন্যটি হলো মানুষের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও জীবনের পরীক্ষা। ইসলাম ধর্মেও মহাবিশ্বের এই শৃঙ্খলার সঙ্গে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও কর্মের স্বাধীনতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তুলে ধরা হয়েছে।
ইসলামি দর্শন অনুযায়ী, চন্দ্র-সূর্য থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর নির্ধারিত প্রাকৃতিক বিধানের কাছে সম্পূর্ণ অনুগত। এমনকি মানুষের জন্ম, মৃত্যু ও শারীরিক জৈবিক প্রক্রিয়াগুলোও এই অমোঘ নিয়মের অধীন, যার বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, আসমান ও জমিনে যা কিছু রয়েছে, স্বেচ্ছায় বা বাধ্যগতভাবে সবাই তাঁরই অনুগত। তবে প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টির বিপরীতে আল্লাহ মানুষকে দিয়েছেন বিশেষ নিয়ামত—চিন্তা করার শক্তি, ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার বিবেক এবং সীমিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি বা ইখতিয়ার।
এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিই মূলত মানুষের দুনিয়াবি জীবনের মূল পরীক্ষা। মানুষের ওপর জোর করে কোনো পথ চাপিয়ে দেওয়া হয়নি, কারণ পরীক্ষার আসল সৌন্দর্যই হলো নিজের ইচ্ছায় সঠিক পথটি বেছে নেওয়া।
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত একটি সহিহ হাদিসে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন যে প্রতিটি মানবশিশু তার স্বভাবজাত খাঁটি ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, পরবর্তীতে তার পরিবেশ ও স্বাধীন কর্মপদ্ধতি তাকে নানা পথে পরিচালিত করে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই সত্যের অনুসারী হিসেবে জন্ম নিলেও, সে তার বিবেক ও ইচ্ছাশক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করবে—তার ওপরই তার সফলতা নির্ভর করে।
প্রকৃতির এই সুশৃঙ্খল সৌন্দর্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সৃষ্টিকর্তার এই নিয়মের অমর্যাদা না করে আমাদের উচিত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিকে সদ্ব্যবহার করা। জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং স্বেচ্ছায় সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের পথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমেই মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
আপনার চারপাশে প্রকৃতির কোন দৃশ্যটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি স্রষ্টার অস্তিত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়? কমেন্টে জানাতে পারেন!