মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পেয়ে মেয়াদের শেষ দুই বছরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নজর দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন ও ইরান সংকটে দৃশ্যমান কোনো চুক্তি না আসায়, ওয়াশিংটন এখন পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়ার আভাস দিচ্ছে।
তবে রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক বিশ্লেষক ও বিচারকের তথ্য মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে ট্রাম্প বড় ধরনের কোনো ছাড় দিলে—টোকিও ও সিউলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কে তীব্র সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে ট্রাম্প তিনবার সাক্ষাৎ করলেও ২০১৯ সালের শীর্ষ সম্মেলনটি পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রাগার এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক, পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের মজবুত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সে কারণে বর্তমানে কিম জং উনের পক্ষ থেকে হুট করে আলোচনার টেবিলে বসার জোরালো তাগিদ দেখা যাচ্ছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি অবশ্য দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট সর্বদা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর মধ্যে তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, ট্রাম্প যদি কিমকে টেবিলে টানতে উত্তর কোরিয়াকে 'পারমাণবিক শক্তি সম্পন্ন দেশ' হিসেবে মেনে নেন বা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মূল শর্ত ত্যাগ করেন, তবে সার্বিক এশীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের শত্রুতাপূর্ণ নীতি ও পারমাণবিক চাপ বন্ধ না হলে তারা কোনো সংলাপে আগ্রহী নয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান ও কিমের কৌশলগত হিসেব-নিকাশের কারণে মেয়াদের শেষ অংশে এসে ট্রাম্পের জন্য নতুন কোনো চুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছে।
সূত্র: রয়টার্স