ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩৩, ২৩ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপরাধমুক্ত করতে সিরাতচর্চার বিকল্প নেই



শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপরাধমুক্ত করতে সিরাতচর্চার বিকল্প নেই

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অপরাধমুক্ত করতে নবীজির (সা.) সিরাতচর্চার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অধ্যয়ন ও অনুসরণের প্রবণতা বাড়াতে হবে। তাঁর আদর্শ ব্যক্তিজীবনে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামীর বাংলাদেশ সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট নগরীর হোটেল মীরা গার্ডেনের হলরুমে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ এমসি কলেজ শাখা আয়োজিত ‘সিরাতুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাআদ বিন জাকির বলেন, ‘আমাদের জীবনের সর্বোত্তম আদর্শ মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পবিত্র জীবনী বা সিরাত শুধু জানার বিষয় নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণ করার বিষয়।’ একজন আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবে নবীজির (সা.) সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, শৃঙ্খলাবোধ, উত্তম চরিত্র ও জ্ঞানার্জনের প্রতি আগ্রহ নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের সমন্বয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা। এ জন্য নিয়মিত সিরাত অধ্যয়ন এবং নবীজির আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান তাকি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কীভাবে মদিনা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং তৎকালীন কায়সার ও কিসরার সাম্রাজ্যের পতনের প্রেক্ষাপট কী ছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাত-আটশ বছর ইসলামী শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হওয়ার পরও অনেক অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা ও মুসলিম জনসংখ্যা কেন সংকুচিত হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অন্যদিকে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় দুইশ বছর ব্রিটিশ শাসনের পরও ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা টিকে রয়েছে। এর পেছনে আলেম-উলামার বুদ্ধিবৃত্তিক ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তির অন্যতম ধারক জমিয়ত। ধারাবাহিক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইসলাম, মুসলমান, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংগঠনটি ভূমিকা রেখে চলেছে।

এমসি কলেজ ছাত্র জমিয়তের সভাপতি সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন ও মেহেদী হাসান চৌধুরীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ছাত্র জমিয়তের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক চৌধুরী, সিলেট মহানগর জমিয়তের যুগ্ম সম্পাদক আহমদ সগীর, জগন্নাথপুর উপজেলা জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক ফখর উদ্দিন, যুব জমিয়ত সিলেট মহানগরীর সিনিয়র সহসভাপতি বেলাল আহমদ চৌধুরী, জমিয়ত সিলেট জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহমদ, এমসি কলেজ ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি হোসাইন আহমদ, ছাত্র জমিয়তের সাবেক সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, ছাত্র জমিয়ত সিলেট মহানগরীর সভাপতি জামিল আহমদ, সিলেট জেলা উত্তরের সভাপতি আবু তালহা তোফায়েল, মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আবু হানিফ সাদি ও জেলা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অনুষ্ঠান শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারীকে একটি ল্যাপটপ, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে একটি স্মার্টফোন এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে একটি বাইসাইকেল দেওয়া হয়।


   আরও সংবাদ