ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩৩, ২৬ রবিউল সানি ১৪৪৮

কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই কি বিয়ে হয়ে যায়? 



কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেই কি বিয়ে হয়ে যায়? 

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য কেবল কাবিননামায় স্বাক্ষর করা যথেষ্ট নয়। বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মূল শর্ত হলো দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বর-কনের মৌখিক ‘ইজাব ও কবুল’ (প্রস্তাব ও গ্রহণ)। শরিয়তের পরিভাষায় কাবিননামা হলো একটি সরকারি নিবন্ধন সনদ বা বিয়ের প্রমাণপত্র, কোনো মূল আকদ বা চুক্তি নয়। তাই মৌখিকভাবে ইজাব-কবুল না করে শুধু কাগজে সই করলে কিংবা কাউকে না জানিয়ে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিলে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে হিসেবে গণ্য হবে না। এছাড়া এভাবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে বসবাস করাও সম্পূর্ণ অবৈধ।

ইসলামী ফেকাহবিদদের মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারীর উপস্থিতি এবং তাদের সামনে মুখ ফুটে ইজাব-কবুল বলা বাধ্যতামূলক। কোনো অবস্থাতেই গোপনীয়তা রক্ষা করে বা প্রতারণার মাধ্যমে সই করিয়ে বৈধ সম্পর্কের দাবি করা যায় না। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে সবসময় প্রকাশ্য হতে হবে, যাতে সমাজের সবাই তা একটি বৈধ সম্পর্ক হিসেবে জানতে পারে। এ প্রসঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিয়ে প্রকাশ্যে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মসজিদে তা সম্পন্ন করার এবং তা প্রচারের তাগিদ দিয়েছেন। কারণ গোপনীয়তা প্রায়শই সমাজে সন্দেহ, অপবাদ এবং নানা ধরনের অস্থিরতার জন্ম দেয়।

বিয়েতে কনের সম্মতির বিষয়েও শরিয়তে সুস্পষ্ট ও সুন্দর দিকনির্দেশনা রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক কোনো মেয়েকে বিয়ে দিতে হলে বর ও তার সার্বিক বিষয় স্পষ্টভাবে কনের সামনে উপস্থাপন করে তার সম্মতি নিতে হবে। কুমারী মেয়েদের ক্ষেত্রে লজ্জার বিষয়টি বিবেচনা করে তাদের মৌনতা বা চুপ থাকাকেই সম্মতি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। তবে পূর্বে বিবাহিত বা বিধবা নারীর (সাইয়েবাহ) ক্ষেত্রে মৌখিকভাবে স্পষ্ট অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশ ছাড়া কোনো নারীকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা যাবে না।


   আরও সংবাদ